Samhati
৬:৫০ পিএম
২৯ জুন ২০১৪

স্বাধীন ভারতে নদনদী পরিকল্পনা

কপিল ভট্টাচার্য

স্বাধীন ভারতে নদনদী পরিকল্পনা

বাংলার ইতিহাস তার নদ-নদীর খাত ধরে এগিয়েছে। বাংলার মর্মের সন্ধানী কপিল বুঝেছিলেন--নদী এ ভূমির প্রাণ, এ অঞ্চলের মানুষের ভবিষ্যৎ উৎপাদনশীলতার মুক্তিও তাই নদ-নদীর রক্ষা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ওপর পুরোটাই নির্ভরশীল। দেশের মানুষকে সজাগ করার লক্ষ্যেই তিনি বাংলাভাষায় নদী পরিকল্পনা বিষয়ক গ্রন্থাদি রচনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আজকে যখন ভারত ও বাংলাদেশ উভয় রাষ্ট্রেই অবশিষ্ট নদীসমূহকে ঘিরে সাম্রাজ্যবাদী আন্তঃনদী সংযোগ পরিকল্পনার মাধ্যমে পানি প্রবাহের ওপর কর্পোরেট মালিকানা কায়েমসহ কৃষি, প্রাণবৈচিত্র লুণ্ঠনের নতুনততর আয়োজন সম্পন্ন হচ্ছে, তখন নদীবিশেষজ্ঞ ও প্রকৃতিবিদ কপিল ভট্টাচার্যের স্বাধীন ভারতে নদনদী পরিকল্পনা গ্রন্থটি বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতি প্রত্যেকেরই পাঠ দাবি করে।

স্বাধীন ভারতে নদনদী পরিকল্পনা গ্রন্থটি লেখকের বিভিন্ন সময়ে নদী বিষয়ে লিখিত গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ ও সাক্ষাৎকারের একটি সংকলন।

কপিল ভট্টাচার্য
১২ সেপ্টেম্বর ১৯০৪ এ পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলায় জন্ম। শিবপুর বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে প্রকৌশল বিদ্যা শেষ করেন ১৯২৮-এ। তিরিশের দশকে ফ্রান্সে উচ্চতর শিক্ষা শেষে স্বদেশে সরকারি কাজে যোগ দেন। তাঁর কাজের অংশ হিসেবেই বাংলার নদ-নদীর গতি-প্রকৃতির ওপর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পত্রপত্রিকায় প্রবন্ধ লেখা শুরু করেন। ১৯৫৪ সালে বর্তমান গ্রন্থটি বই আকারে প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। নদী বিষয়ে তাঁর আরেকটি গ্রন্থের নাম ‘স্বাধীন ভারতে নদ-নদী ও পরিকল্পনা (১৯৮৪)। বিজ্ঞান ও নদী গবেষণার পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যেও আগ্রহ ছিল। তিনি ‘কল্লোল’ ও ‘কালি কলম’ গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত ছিলেন। তাঁর ছোটগল্প সংগ্রহ ‘ঘসেটি মলের তাঁবেদারী’ ও ‘তিন পেগ হুইস্কি’ ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত হয়। পোশাগত জীবনে এসোসিয়েশন অভ ইঞ্জিনিয়ার্সসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠাকাল থেকে আমৃত্যু গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতির (এপিডিআর) সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর কলকাতায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

প্রকাশকাল : জানুয়ারি ২০১৩
প্রচ্ছদ : অমল আকাশ
দাম : ১৮০ টাকা/ ৮ ডলার
আইএসবিএন : ৯৭৮-৯৮৪-৮৮২-২১৯-১