Samhati
৩:০৫ পিএম
০৯ আগস্ট ২০১৫

জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জনগণের মুক্তি

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জনগণের মুক্তি

ঊনিশ শ’ পাঁচ সালের প্রথম বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ঊনিশ শ’ সাতচল্লিশ সালের দ্বিতীয় বঙ্গভঙ্গ পর্যন্ত সময়টুকু নিয়ে রচিত জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জনগণের মুক্তি প্রচলিত অর্থে ঘটনার বর্ণনা নয়, ঘটনার তাৎপর্য অনুসন্ধানের বিশিষ্টতায় অনন্য। বাঙালীর জাতীয়তাবাদের বিকাশটি ঘটেছিল এই সময়টুকুর মধ্যে, বিশেষ করে প্রথমবারের বঙ্গভঙ্গের প্রতিরোধ যে তীব্র দেশাত্মবোধের আর আত্মোপলব্ধির সম্ভাবনার জন্ম দিয়েছিল, তারই হাত ধরে। অন্যদিকে ওই বঙ্গভঙ্গের মধ্য দিয়েই বাংলায় আধুনিক সাম্প্রদায়িকতা বিস্তারের ইতিহাসটিরও শুরু। এই হাত ধরাধরি করে চলা জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িতক রাজনীতির আধিপত্যের মাঝেই মানুষের মুক্তির প্রশ্নটি কিভাবে আটকা পড়লো পরিচয়ের রাজনীতির আড়ালে, কিভাবে তাদের শ্রমিক বা কৃষক পরিচয়কে ভুলিয়ে ভারতীয় বা পাকিস্তানী, হিন্দু বা মুসলিম পরিচয়কেই সামনে টেনে এনে প্রধান পরিচয় বানিয়ে দেয়া হয়েছিল, সেটাও বর্তমান গ্রন্থের অন্যতম উপজীব্য।

জাতীয়তা ও সাম্প্রদায়িকতা উভয়ের উত্থানের ওই সময়টুকুতে সমাজের সক্রিয় অংশগুলোর মনস্তত্ত্ব ও আকাঙ্ক্ষাকে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন একদিকে তাদের ক্রিয়াকাণ্ড, অন্যদিকে সমকালীন সাহিত্যের সাক্ষ্যসহ  নানান উপাদান ব্যবহার করে। এক একটা যুগ এবং তাতে ভূমিকা রাখা সামাজিক গোষ্ঠীগুলোর মনোভাবকে উপলব্ধির জন্য সাহিত্যিক নিদর্শনগুলোর এত গভীর ও বিপুল ব্যবহার সিরাজুল ইসলাম চৌধুররীর আগে খুব কমই হয়েছে বাংলা ভাষায়।
১৯০৫-৪৭ কালপর্বের ঘটনাবলীর বীজ অনুসন্ধানের প্রয়োজনে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী যেমন অনায়াসে বিচরণ করেছেন এর আগেকার ঊনিশ শতকের কীর্তিমানদের তৎপরতায়, তেমনি এই জাতিয়তাবাদী রাজনীতির ফলাফলকেই কখনো কখনো চিহ্নিত করেছেন আমাদের চারপাশের বাস্তবতায়।
জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জনগণের মুক্তি রচিত হয়েছে প্রায় দশ বছর ধরে; বাংলাদেশের ইতিহাস বিষয়ে অনুসন্ধিৎসু পাঠকেরা, রাজনীতির বাঁকগুলো নিয়ে উৎসুক ব্যক্তিরা, এবং অতি অবশ্যই বাংলা সাহিত্যের পাঠক বহুকাল ধরে এই আকরগ্রন্থটির কাছে আসতে বাধ্য হবেন।

 

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী জন্ম ১৯৩৬ এ। শিক্ষাজীবন কেটেছে রাজশাহী, কলকাতা, ঢাকা এবং যুক্তরাজ্যের লীডস ও লেস্টারে। পেশাজীবনে অধ্যাপনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে, সেখান থেকে অবসর নেয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশন অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন।
অধ্যাপনার জগতে যেমন অনন্য, তেমনি বাংলাভাষায় বিদ্ব্যৎ সমাজ গড়ে তোলার বিবিধ উদ্যোগে পালন করেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পত্রিকাসহ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বেশ কয়েকটি জার্নাল সম্পাদনার পাশাপাশি সম্পাদনা করেছেন সাপ্তাহিক সচিত্র সময়। বর্তমানে সম্পাদনা করছেন ত্রৈমাসিক নতুন দিগন্ত। সাংস্কৃতিক আন্দোলনের গণতান্ত্রিক ধারায় সামনের সারিতে থেকেছেন, পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে পালন করেছেন উদ্যোগী নেতৃত্বের ভূমিকা। কিন্তু সব কিছুর ওপরে লেখক হিসেবেই তাঁর স্থানটি মৌলিক ও স্বতন্ত্র।
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর এ যাবত প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা আশি অতিক্রম করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত তাঁর কয়েকটি গ্রন্থ-বাঙালীর জাতীয়তাবাদ, ছত্রভঙ্গের পূর্বাপর, দুই যাত্রায় এক যাত্রী, বিচ্ছিন্নতায় অসম্মতি।

প্রকাশকাল : ফেব্রুয়ারি ২০১৫
প্রচ্ছদ : সব্যসাচী হাজরা
দাম : ১০০০ টাকা/ ৫০ ডলার
আইএসবিএন : ৯৭৮-৯৮৪-৮৮৮২-৮৬-৩