Samhati
৭:৫১ পিএম
১৮ জুন ২০১৪

আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ও আত্মসত্তার রাজনীতি

গৌতম ভদ্র

আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ও আত্মসত্তার রাজনীতি

আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ পুথির কঙ্কালের ভেতর যুগযুগান্তরের রক্তধমনী ও নিঃশ্বাসের প্রবাহধ্বনি শুনেছিলেন। সারা জীবন তিনি বিশ্বাস করে এসেছেন সেই এক হারানো যুগের ‘শিল্পস্রষ্টাদের পক্ষে যাহা সত্য ছিল’, আজ এই যন্ত্রের যুগেও ‘তাহার বিশেষ ব্যতিক্রম ঘটে নাই। ... তাহার আস্বাদ যুগযুগান্তর অতিক্রম করিয়া আজও অবিকৃত অম্লান রহিয়াছে।’

বর্তমান গ্রন্থটি অবশ্য ‘মুনশি আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদের দান ও সাধনা নিয়ে নিছক বিবরণী’ নয়, বরং ভারতীয় ভাষা-সংস্কৃতি-ঐতিহ্য নিয়ে ঔপনিবেশিক বিজয়সূত্রে পশ্চিমের পণ্ডিতদের নৃতাত্ত্বিক ‘ভারতবিদ্যাগত’ আগ্রহ কিভাবে সংস্কৃতাশ্রয়ী পুথিসন্ধান ছাপিয়ে নানা আঞ্চলিক ভাষা পর্যন্ত অগ্রসর হল, কিভাবে অনতিবিলম্বে সাহেব ও দেশী-পণ্ডিতদের মাঝে চাপান-উতোরের ক্ষেত্র হয়ে উঠল, লোকজ ঐতিহ্য লালিত দেশীয় গবেষকদের সাথে বিদগ্ধ বিজ্ঞানসম্মত গবেষকদের বৈপরিত্যও স্পষ্টতর হতে থাকল--সাহিত্যবিশারদ ও তাঁর সাধনাকে সেই পরিপ্রেক্ষিতেই পুনরাবিষ্কার করেছেন গৌতম ভদ্র।

গৌতম ভদ্র জ্ঞানায়তনের সেই ধারার প্রতিনিধি, কর্তার নিজস্ব চৈতন্যের মূল্য যেখানে সবৃশেস। আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের আপাত নিরীহ পুথিসংগ্রহ, পুথি পরিচিতি নির্মাণ ও পুথিসাহিত্য চর্চার দ্বান্দ্বিক মাত্রাগুলি বৃহত্তর সমাজ ও রাজনীতির পরিসরে কীভাবে প্রতিভাসিত হয় তার নিরীক্ষা তাই এই গ্রন্থের উপজীব্য হয়ে উঠেছে।

গৌতম ভদ্র
১৯৪৮-এ কলকাতায় জন্ম। আদি নিবাস বর্তমান বাংলাদেশের বৃহত্তর খুলনার সাতক্ষীরা জেলার উথলি গ্রামে। চেতনা বয়েক স্কুল, প্রেসিডেন্সি কলেজ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা জীবন শেস করার পর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে সতেরো বছর শিক্ষকতা করেন। বর্তমানে কলকাতার সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোস্যাল সায়েন্সেজ-এ ইতিহাসের অধ্যাপক পদে নিযুক্ত আছেন। অল্পবিস্তর ইংরেজিতে লিখলেও বাংলা ভাষাতেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করেন। বাংলায় প্রকাশিত তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থÑমুঘল যুগে কৃষি-অর্থনীতি ও কৃষক-বিদ্রোহ (১৯৮৩), ইমান ও নিশান (১৯৯৪), জাল রাজার কথা : বর্ধমানের প্রতাপচাঁদ (২০০২)।

সাবঅলটার্ন স্টাডিজের সম্পাদকমণ্ডলির তিনি অন্যতম সদস্য ও ঐতিহাসিক পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক।

প্রকাশকাল : ২০০৭
প্রচ্ছদ : অমল আকাশ
দাম : একশত টাকা
আইএসবিএন : ৯৮৪-৭০০৪৬-০০০২-৪